শেষ ঠিকানাটাও পুড়লো রহিমার

0
144

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টার আগুন অধিকাংশ বস্তিবাসীর সহায়-সম্বল কেড়ে নিয়েছে। খেটে খাওয়া হাজার হাজার মানুষ হয়েছে ঘরহীন। অধিকাংশের ঠিকানা এখন খোলা আকাশের নিচে। আগুনে জ্বলতে থাকা বস্তির সামনে কান্না চোখে বিলাপ করছিলেন রহিমা খাতুন।

পরিবারহীন এই রহিমার একমাত্র ঠিকানা ছিল এই বস্তির একটি কুড়েঘর। সেটিও চোখের সামনে পুড়ছে। এর সামনেই দাড়িয়ে দর্শকের ভূমিকায় রাহিমা। বার্ধ্যক্যের কারণে আগুন লাগার সাথে সাথে যেভাবে ছিলেন সেই অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হয়ে যান। ঘরে জমানো কিছু টাকা আর আসবাবপত্র থাকলেও সেগুলো রক্ষা করতে পারেননি। রহিমা খাতুন জানান, আগে পথে পথে ভিক্ষা করে পথেই থেকে যেতেন। দুই বছর ধরে এই বস্তিতে একটি ঘরে থাকতেন। ভিক্ষা করা বাদ দিয়ে মিরপুরের একটি খাবারের দোকানে কাজ নিয়েছিলেন রহিমা। সেখান থেকে যা আয় হত তা দিয়ে দিন কেটে যাচ্ছিল রহিমার। আগুনের কারণে আবারো তাকে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নিতে হবে।

বস্তিবাসী জানায়, ৩২ নম্বর রোডের দিকে প্রথমে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে যায়। এসময় যে যার মতো ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। অনেকেই তাদের মালপত্র রাস্তায় রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বেগ পেতে হয়।

তবে যাদের ঘর আগুনের উৎপত্তি থেকে কিছুটা দূরে, তারা যে যার মত পেরেছে ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে সড়কের দুইধারে অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাতে যাওয়ার মত তাদের আর কোনো জায়গা নাই। কোনো ব্যবস্থা না হলে এই খোলা আকাশের নিচেই তাদের রাত কাটাতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকালে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট যোগ দেয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে অন্তত দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স ও মেইনটেনেন্স) লেফট্যানেন্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আমাদের ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায়। আগুন লাগার পর বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা ছিল। যে কারণে গাড়ি ঢুকতে একটু সমস্যা হয়েছে। আশপাশে পানি সংকট, বিভিন্ন ভবনের রিজার্ভ থেকে পানি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। সাড়ে তিন ঘণ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন ডাম্পিং চলছে। কোনো হতাহতের সংবাদ পাইনি।

আগুন নেভার পরে পুড়ে যাওয়া ছাইয়ের ভিতরে নিজেদের শেষ সম্বল খুঁজছেন অনেকেই। অল্প আগুনের মাঝেই ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা নিজেদের পুড়ে যাওয়া কিছু পাওয়ার আশায় উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খুঁজতে থাকেন।