সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মঈন তুষার

0
1061

আনোয়ার হোসেন।। সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মঈন তুষার। রাজনীতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতাবাদ একেবারেই অচল। তবে রাজনীতি ব্যক্তির অবদান স্বীকার করে তা যদি হয় সর্বাংশে ইতিবাচক রাজনীতি। এদেশে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি মানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

বিগত অন্ততঃ তিন দশক আওয়ামী লীগ বরিশালে বিভিন্ন নির্বাচনে বারবার পরাজিত হয়, যা এতদঅঞ্চলের দেশপ্রেমিক জনগনকে হতাশায় নিমজ্জিত করে। ঠিক এমন পাথর সময়ে আধুনিক বরিশালের রুপকার, এবং বলা যায় প্রান পুরুষ শওকত হোসেন হিরন শহর আওয়ামী লীগের হাল ধরেন এবং বলতে গেলে প্রায় একাই স্থানীয় আওয়ামী লীগকে শক্ত ভিত্তিভূমির উপর দাড় করায়।

শওকত হোসেন হিরন কে ছিলেন তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই, কিভাবে ছিলেন সে সব নিয়ে আলোচনা, লেখালেখি, বক্তৃতা, বিবৃতি অবশ্যই কখনও শেষ হবেনা। রাজনৈতিক অনুশীলনে শওকত হোসেন হিরন ছিলেন পোড় খাওয়া এক ব্যক্তিত্ব, ৭০ দশকের মধ্যভাগ থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু, এবং মৃত্যূর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বার বার নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। অতএব শওকত হোসেন হিরন কি বুঝতো কি না বুঝতো সে সব পরের বিষয়, তিনি রাজনীতি বুঝতেন এবং সব সময়েই থাকতেন সর্বস্তরের মানুষের কাছাকাছি এটাই তার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য। আজ শওকত হোসেন হিরন নেই, নেই মানে দুনিয়ায় নেই।

আছে লাখো মানুষের অন্তরে, দুনিয়ায় আছে শুধু তার কবরটা। আর আছে তার রেখে যাওয়া কিছু সাচ্চা অনুসারী। চলমান সময়ে হিরনবিহীন বরিশালে যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাকসুর ভিপি, সংগ্রামী ছাত্রনেতা মোঃ মঈন তুষার। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে যে কয়েকটি বিপদজনক, স্পর্শকাতর সঙ্কটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দেশ ও জাতি তার মধ্যে একটির নাম ওয়ান ইলেভেন।

শুদ্ধিকরন অভিযানের নামে দেশব্যাপি চলে মিলিটারী আতঙ্ক! সৃষ্ট রাজনৈতিক সামরিক ঘুর্নাবর্তে তৎসময়ে গ্রেপ্তার হন গনতন্ত্রের মানসকন্যা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা!

সেই উত্তাল সময়ে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে প্রথম মিছিলটি বের করে বিএম কলেজ ছাত্রলীগ তথা বাকসু এবং তার নেতৃত্বে ছিলো সংগ্রামী ছাত্রলীগ নেতা ভিপি মঈন তুষার। সর্বস্তরের বিপুল জনতা সেদিন বিভিন্নভাবে সমর্থন ব্যক্ত করে মিছিলটির প্রতি, সমর্থন করে জননেত্রীর মুক্তির দাবীকে।

আজ সে সব ইতিহাস হলেও চলমানতার প্রেক্ষিতে তা এখনও প্রাসঙ্গিক। ওয়ান ইলেভেন উত্তর রাজনীতির নতুন মেরুকরনে বরিশাল ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব আওয়ামী ছাত্রলীগের মহীরুহের ছায়ায় রাখতে এবং তাকে ইতিবাচকভাবে রাখতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে বরিশাল ছাত্রলীগ এবং তাকে সর্বাত্মক সমর্থন ও শক্তি জোগায় বিএম কলেজ ছাত্রলীগ তথা বাকসু যা মঈন তুষারের বলিষ্ঠ নেতৃতে ¡ছিলো চলমান।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সচেতন রাজনীতির প্রধান ধারার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা মঈন তুষারের যথেষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তীর সংগঠক, জননেতা আমির হোসেন আমু, প্রয়াত জননেতা শওকত হোসেন হিরন প্রমুখগনদেরকে কাছ থেকে দেখার বিরল সৌভাগ্য তার হয়েছে একাধিকবার, দেখেছেন গনসম্পৃক্ততার মাত্রা, ইতিবাচক রাজনীতির প্রসারতা, কিভাবে গণযোগাযোগ দ্বারা সমৃদ্ধ করতে হয় মুল ধারার রাজনীতিকে।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা যায় যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়, এর সাথে সম্পৃক্ত পল্লী উন্নয়নএবং সমবায় সম্পর্কীত বিষয়াবলী। এবং উপজেলা পরিষদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রান্তিক অবকাঠামোগত প্রশাসনিক এবং জনগুরুত্ব সম্পন্ন একটি নির্বাহী পরিষদ।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন বিশ্লেষনেই উপজেলা পরিষদ ছিলো অলংকার সর্বস্ব, লুটপাটের একটা সরকারী গুদাম, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সে অবস্থা আমুল পাল্টে দিয়েছে। উপজেলা পরিষদ এখন সক্ষম কার্যকরী প্রতিষ্ঠান যা একই সাথে প্রান্তিক নির্বাহী পরিষদ এবং জনস্বার্থ প্রনোদিত।

তবে কথা থেকে যায়, ব্যক্তি এবং সমষ্টিক পরিচালনা পরিষদ’র শুদ্ধতা, নৈতিক দৃঢ়তা, আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা,ত্যাগ-সততা ইত্যাদির সমাবেশ না হলে ভালো শেষ পর্যন্ত আর ভালো থাকতে পারেনা।

কোনো যোগ্যতাই একদিনে তৈরী হয়না, স্কুল জীবন থেকেই মঈন তুষার দেশাত্ববোধ এবং জনসেবার মানসিকতা সম্বলিত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি সেই অবিচল আস্থা এখনও বর্তমান, এবং তা আরো সচেতনভাবে, পোড় খাওয়া সংগ্রামী বলিষ্ঠতায়।

কলেজ জীবনে অর্থাৎ অনার্স-মাস্টার্সে পড়াশুনার সময় বরিশালের প্রানপুরুষ প্রয়াত জননেতা শওকত হোসেন হিরনের স্নেহধন্য হয়ে মঈন তুষার স্বীয় রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষার্থীদের নায্য দাবী-আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি মুল ধারার রাজনীতির হাতকে আরো গতিশীল, শক্তিশালী করতে সচেষ্ট থেকেছে।

বরিশাল উপজেলা পরিষদ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। পাকিস্থান আমল থেকে মৌলিক গনতন্ত্রের নামে শাসক শ্রেনীর পদলেহী আমলাতান্ত্রিক সুবিধাভোগী শ্রেনী বা গোষ্ঠীর কালো ছায়া থেকে ধীরে ধীরে বিশেষতঃ গ্রামীন জনপদগুলোকে মুক্ত করে নিজেকে ক্রমশঃ শক্তিশালী করে উপজেলা পরিষদ রাষ্ট্র, সরকার, জনগনের সেবায় এগিয়ে চলছে।

আগামী নির্বাচন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন। আওয়ামী লীগ সরকার বারবার এটা প্রমান করেছে যে, সরকার এবং গনতন্ত্র জনগনের, জনগনের জন্য, জনগনের দ্বারা। আর তাই যথা সময়ে সফল নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার পথকে সবসময় সাবলীল এবং মসৃন রাখে।

হিরন অনুসারীদের মতে, যোগ্যতা সব কিছুর উর্ধ্বে এবং যোগ্যতা অর্জিত হয় বিষয়ের প্রতি আস্থা এবং উপলদ্ধিবোধ থেকে, এরপর সেটাকে এগিয়ে নিতে হয় গনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে।

হিরন অনুসারীদেরকে আরো ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক-রাজনৈতিক উন্নয়নে আরো কার্যকরী করতে বরিশাল সদর উপজেলাবাসী মঈন তুষারকে চেয়ারম্যান হিসাবে প্রত্যাশা করে। সচেতন সদর উপজেলাবাসীদেরমতে, বরিশাল সদরের ঐতিহ্য এবং চলমানতার যোগসূত্রে হারানো বরিশালকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে এই সময়ে মঈন তুষারের বিকল্প নাই।