স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজ আদায়

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা ঠেকাতে গত এক মাস মসজিদে সীমিত আকারে জামাত চালু ছিল।

কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বসাধারণের জন্য মসজিদগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে।

জোহরের আজানের আগে থেকেই নিজ নিজ জায়নামাজ হাতে মসজিদগুলোর দিকে ছুটতে দেখা যায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের। এদিন দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর অধিকাংশ মসজিদেই এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ বিষয়ে রাজধানীর মসজিদুল ফারুকের মুয়াজ্জিন শোয়েবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মসজিদে সরকারের দেয়া সব শর্ত মেনে নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। পুরো রমজানে এভাবেই আমরা সালাত আদায় করব ইনশাআল্লাহ।’

শাহজাহানপুরের আমতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি মাহবুব হাসান বলেন, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে নামাজ আদায় করলে করোনার প্রভাব পড়বে না।

অন্য সময়ের মতো কাতারে না দাঁড়িয়ে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাঁড়ানোয় আজ মনে হচ্ছে অনেক মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছেন। আমার মনে হয় সরকারের বেঁধে দেয়া শর্ত মেনে চললে করোনাভাইরাস ছড়াবে না।

তবে বয়স্কদের মসজিদে নামাজ পড়তে না আসাই ভালো। কিন্তু অন্য সব এলাকার মসজিদের নিয়ম ঠিকমতো মানছে না-এটাই সমস্যা।


বাইতুর রহমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম শামসুল হক বলেন, ‘শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে বলছি। অনেকেই আমাদের কথা শুনছেন। এখনও মুসল্লিরা অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। ধীরে ধীরে সব ঠিক হবে।’

৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয় জুমার জামাতে ১০ জন এবং ওয়াক্ত নামাজে পাঁচজনের জামাতের অনুমতি দেয়। পরে ২৩ এপ্রিল থেকে রমজান মাসে তারাবির জামাতও সীমিত আকারে আদায়ের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

ওই নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১২ জনের মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ১২ দফা শর্ত দিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের সব মসজিদ সর্বসাধারণের নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় সরকার।

শর্তগুলো হল-১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

২. মসজিদের গেটে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সব মুসল্লিকে মাস্ক পড়ে মসজিদে আসতে হবে।

৩. মুসল্লিদের বাসা থেকে ওজু করে ও সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. নামাজের কাতারে তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে। ৫. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

৬. শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৭. মসজিদের ওজুখানায় সাবান বা স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৮. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৯. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

১০. উল্লেখিত শর্ত পালন করে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতে পারবেন।

১১. করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মসজিদে নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন।

১২. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। উল্লেখিত নির্দেশনা না মানলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট মসজিদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।